প্রচ্ছদ » জেলার খবর » বিস্তারিত

পলাশ হত্যা মামলার চার্জশিট, আসামি ১১

২০১৫ অক্টোবর ১৮ ২২:০৯:১০
পলাশ হত্যা মামলার চার্জশিট, আসামি ১১

যশোর অফিস : যশোরে ছাত্রদল নেতা কবির হোসেন পলাশ হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের পরিদর্শক এ কে এম ফারুক হোসেন ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতের সংশ্লিষ্ট দফতরে রবিবার দুটি চার্জশিট জমা দেন। একটি হত্যা, অপরটি বিস্ফোরক আইনে।

ফারুক হোসেন এই মামলার ষষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে বলা হয়েছে, কাস্টমসের মালামাল নিলাম নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

আসামিরা হলেন— শহরের ষষ্ঠিতলা বুনোপাড়ার শফি মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম, বাঘারপাড়া উপজেলার বহরমপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম, শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার মসলেম উদ্দিন ড্রাইভারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ওরফে কালা মানিক, চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে প্রিন্স ওরফে বিহারি প্রিন্স, খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার বয়রা এক নম্বর ক্রস রোডের ৫৯ নম্বর বাড়ির গাজী জাহিদুর রহমানের ছেলে সজল (বর্তমান ঠিকানা যশোর শহরের খড়কি স্কুলপাড়া এলাকার শ্বশুর গাজী লুৎফর রহমনের বাড়ি), শহরের ঘোপ জেল রোড বৌবাজার এলাকার মুজিবর শেখের ছেলে রবিউল শেখ, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার ফিরোজ আলী গাজীর ছেলে ফয়সাল গাজী, রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বিল্লাল খানের ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুল, রায়পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে এবং মুজিব সড়কের আশা এন্টারপ্রাইজের মালিক আল-মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ, ঘোপ মাহমুদুর রহমান স্কুলপাড়ার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে টুটুল ব্যাপারী এবং পূর্ববারান্দীপাড়া কবরস্থান এলাকার আব্দুল হাইয়ের জামাই আব্দুর রাজ্জাক ফকির। শেষোক্ত আসামি পিরোজপুর সদরের হরিণা গাজীপুর গ্রামের আব্দুল করিম ফকিরের ছেলে।

কবির হোসেন পলাশ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পুকুর, ঘের, বাঁওড় লিজ নিয়ে মাছের ব্যবসা ছাড়াও কাস্টমসের নিলাম করা পণ্য কেনাবেচা করতেন।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট কাস্টমস থেকে নিলাম করা পচনশীল পণ্যের আটটি লটের মধ্যে পলাশ তিনটি এবং তার পার্টনার এনামুল হক দুটি কেনেন।

অপরদিকে, পলাশের প্রতিপক্ষ আশা এন্টারপ্রাইজের মালিকের ছেলে আল মাসুদ রানার ব্যবসায়িক পার্টনার কামরুজ্জামান চঞ্চল কেনেন একটি লট।

পলাশ বেশি লট কেনায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় মাসুদ। পলাশের পার্টনার মোকছেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন লাভলু, মহসিন ও এনামুল হক ২৫ নভেম্বর কাস্টমসের গোডাউন ইনচার্জ (তৎকালীন) শম্ভুনাথ দের কাছে মেমো নিয়ে মালামাল বুঝে নিতে যান। সে সময় সংবাদ পেয়ে মাসুদসহ অন্য আসামিরা সেখানে যায় এবং মালামাল পিকআপে ওঠাতে বাধা দেয়। তখন মাসুদ চিৎকার করে বলে, 'পলাশের টাকা বেশি হয়ে গেছে।' তারা পলাশকে নানাভাবে হুমকিও দেয়।

পলাশ প্রায়ই শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মোড়ে ওঠাবসা করতেন। তাকে মারার পরিকল্পনা হিসাবে আগে থেকে টুটুল, ফয়সাল ও রবিউল সেখানে অবস্থান নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তরিকুল, প্রিন্স, রাজ্জাক, জাহিদুল, শহিদুল, সজল ও সাইদুল তিনটি মোটরসাইকেলে করে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঈদগাহ মোড়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা পলাশ ও রিন্টুর সঙ্গে কথা বলতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তরিকুল একটি পিস্তল পলাশের কপালে ঠেকিয়ে গুলি করে। পলাশ রাস্তায় পড়ে গেলে রিন্টু তাকে উঠাতে যায়। সে সময় তরিকুল ও প্রিন্স দুটি গুলি করলে শামছুজ্জামান রিন্টুর হাতে বিদ্ধ হয়। অপর আসামি শহিদুল একটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

ওই ঘটনার চার দিন পর ১৩ ডিসেম্বর পলাশের বোন ফারহানা ইয়াসমিন কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই মামলায় আসামি তরিকুল ইমলাম, শহিদুল ইসলাম, প্রিন্স, কালা মানিক, সজল, রবিউল ইসলাম ফয়সাল গাজী, শহিদল ইসলাম ওরফে সাইদুল ও আল-মাসুদ রানা আটক রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ওই মামলার অপর দুই আসামি টুটুল ও আব্দুর রাজ্জাক ফকিরকে পলাতক দেখানো হয়েছে। আর ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শফিুকুল ইসলাম শফিককে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে চার্জশিটে।

(দ্য রিপোর্ট/এমএআর/এনআই/অক্টোবর ১৮, ২০১৫)