প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

‘বাড়তি ভাড়া বন্ধে অভিযান চলবে’

২০১৫ অক্টোবর ১৯ ১৬:০৮:০০
‘বাড়তি ভাড়া বন্ধে অভিযান চলবে’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত জনদুর্ভোগ হলেও অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি) কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে ডিপোর ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হলে অভিযান চালাতেই হবে। আর অভিযান চালালে জনদুর্ভোগ হবেই। তাই বলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।‘

সাংবাদিকদের উদ্দেশে হতাশার সুরে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, জনগণের কথা চিন্তা করেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিলে আপনারা (সাংবাদিকরা) ছোট হেডিং করেন। আর দুর্ভোগ হলে বড় হেডিং করেন। তাহলে অভিযান বন্ধ করে দেই। অভিযানের ফলে যে জনদুর্ভোগ তা আর থাকবে না, অতিরিক্তি ভাড়া আদায়ও বন্ধ হবে না।

ডিপোর ব্যবস্থাপকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। এতে রাষ্ট্রীয় এই গণপরিবহন সংস্থাটির ডিপো ব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, এখন বিআরটিসি লাভজনক সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বিআরটিসির ১ হাজার ৫৩২টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বাস মেরামতের অযোগ্য। আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় এগুলো বিক্রি করে দেওয়া যাচ্ছে না।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিসি লাভজনক সংস্থা হলে কর্মচারী ছাঁটাই হচ্ছে কেন, কেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে? গাজীপুরে কাউকে কিছু না জানিয়ে কয়েকজন কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বিআরটিসি বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। অভিযান চালানো পর দুই রুটের বিআরটিসি ভাড়া কমিয়েছে। কিন্তু কেন? তাহলে সত্যিই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করত। আর গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণেরও বাজে অবস্থা। বেশিরভাগ গাড়ির জানালার কাচ ভাঙা, লাইট জ্বলে না, ফ্যান চলে না, সাঁটানো পোস্টার খোলা হয় না। আর্টিকুলেটেড ও দ্বিতল বাসেরও একই অবস্থা। এ অবস্থা চলতে পারে না। এর বিহিত করতে হবে।

এ সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বিআরটিসি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ তুলে বলেন, গাড়ি লিজের নামে অপকর্ম হয়। লিজের পর গাড়ির আর খোঁজ-খবর রাখা হয় না। কখন, কোন গাড়ি লিজ দেওয়া হচ্ছে কেউ জানে না। আবার অঘোষিত গার্মেন্টসে গাড়ি লিজ দেওয়া হয়। এ সব অপকর্মের সাথে ডিপো ব্যবস্থাপকরা জড়িত। এ সব বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রথমবারের মতো বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

(দ্য রিপোর্ট/এসএইচ/একেএস/সা/অক্টোবর ১৯, ২০১৫)