প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন » বিস্তারিত

‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে সালাউদ্দিনের পক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারেন’

২০১৫ অক্টোবর ১৯ ১৭:১৩:৫৯
‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে সালাউদ্দিনের পক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারেন’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ন্যায়বিচারের স্বার্থে সুপ্রীম কোর্ট সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে আটজন সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে আপিল বিভাগ সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এ সব ব্যক্তির সমন দিয়ে এ ব্যাপারে (যুদ্ধের সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পাকিস্তানে ছিলেন কিনা) নিশ্চিত হতে পারেন। এতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ মিথ্যা ও বানোয়াট। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে।

সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সুনির্দিষ্ট ডিফেন্স হচ্ছে তিনি চট্টগ্রামে থাকতেন না। তিনি ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগ থেকে ঢাকার নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সুবাদে ধানমণ্ডির পৈত্রিক বাসায় থাকতেন। তিনি ২৯ মার্চ পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং ঢাকায় ফেরেন ১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে। পাঞ্জাব যাওয়ার সময় কাইউম রেজা চৌধুরী ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিজ গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ট্রাইব্যুনালে বলেছেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে দেশী ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এ সব রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, যদি আদালত অনুমতি প্রদান করেন তাহলে আট সাক্ষী তাদের এফিডেবিট প্রদত্ত বক্তব্যের ব্যাপারে বাংলাদেশে এসে সত্যতা নিশ্চিতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এর আগে সোমবার সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে রিভিউ শুনানির সময় আটজনকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে পাঁচজন পাকিস্তানের, একজন যুক্তরাষ্ট্র ও বাকি দু’জন বাংলাদেশীর সাফাই সাক্ষী দিতে অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়।

তারা হলেন— পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী মোহাম্মদ মিঞা সুমরো, সাবেক রেলমন্ত্রী ইসহাক খান খাকওয়ানি, ডন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারপারসন আম্বার হারুন সাইগাল, স্থপতি মুনিব আরজামান্দ খান ও ভিকারুননিসা নূনের নাতি ফিরোজ আহমেদ নূন, ফিজিতে দায়িত্বপালনকারী আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রদূত ওসমান সিদ্দিক, সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও বিচারপতি শামীমের মা জিনাত আরা বেগম।

বিচারপতি শামীম হাসনাইন এর আগে সাক্ষী দেওয়ার অনুমতির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সে আবেদনে সাড়া দেননি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

গত ২৯ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ।

১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

তিনি জানান, মোট ১০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১০টি যুক্তি দেখিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রধান আইনজীবী হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এদিকে, দ্রুত রিভিউ আবেদনের শুনানির জন্য দিন নির্ধারণে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচ/একেএস/সা/অক্টোবর ১৯, ২০১৫)