Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » » বিস্তারিত

দেখতে দেখতে ২৫ বছর কেটে গেল!

২০১৪ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৪:৫৭:১৫
দেখতে দেখতে ২৫ বছর কেটে গেল!

ইসহাক ফারুকী, দ্য রিপোর্ট : রেহানা জলি। বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা হয়ে এসেছিলেন। তবে বেশি দিন নয়, অল্প সময় পরই তিনি মায়ের চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে আছেন চলচ্চিত্রে। দ্য রিপোর্টের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানালেন নানা কথা।

চলচ্চিত্রের শুরুটা কবে?

১৯৮৭ সালে কামাল আহমেদের ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে আমার যাত্রা শুরু। প্রথম চলচ্চিত্রেই আমি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি।

প্রথম চলচ্চিত্রেই জাতীয় পুরস্কারকেমন লেগেছিল?

খবরটা পাই নুরুন্নবী সাহেবের কাছ থেকে। উনি আমাকে বললেন, আপনি অ্যাওয়ার্ড পেতে যাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস হয়নি। পাগল হয়ে যাচ্ছি মনে হল! আনন্দে কাঁদতে শুরু করলাম। সারা রাত কেবল অস্থির লেগেছিল। ১৯৮৮ সালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যখন পুরস্কার নিতে উঠি, তখন সব স্বাভাবিক ছিল। শান্তভাবেই পুরস্কার নিয়েছিলাম।

এরপর তো অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন

দেখতে দেখতে ২৫ বছর কেটে গেল। বিরাজ বউ, প্রতীক্ষা, গোলমাল, প্রায়শ্চিত্ত, নিষ্পাপসহ অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। প্রথমে নায়িকা পরে মায়ের চরিত্রে অভিনয় শুরু করি। এ জে মিন্টুর ‘প্রথম প্রেম’ চলচ্চিত্রে মা চরিত্রে অভিনয় শুরু করি। এক চলচ্চিত্রে মান্নার নায়িকা হয়েছিলাম, আরেক চলচ্চিত্রে ওর মা হয়েছি। এরপর টানা অনেক চলচ্চিত্রে শাকিব খানের মা হয়েছি।

হুট করে মায়ের চরিত্রে অভিনয় শুরু করলেন?

নায়িকারা বসন্তের কোকিলের মত। উত্থান-পতন আছে। কিন্তু মায়ের চরিত্রে আমি অনেক দিন থাকতে পারব। এর শেষ নেই। মায়ের মত কেউ নেই, তাই না? আমি এতদিন ধরে মায়ের চরিত্র করে যাচ্ছি। আরও ৫-১০ বছর করে যেতে পারব।

নাটকেও তো অভিনয় করেছিলেন?

মঞ্চে প্রথম বিধায়ক ভট্টাচার্যের ‘তাইতো’ নাটকে প্রথম অভিনয় করি। ওটা ১৯৮৭ সালে। এর আগে টেলিভিশনে বদরুন্নেসা আব্দুল্লাহর ‘উজান চরের দুলি’ নাটকে দুলি চরিত্রে অভিনয় করেছি। ওই অভিনয় দেখে কামাল আহমেদ পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। উনি আমাকে তার চলচ্চিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন।

পরিবার থেকে অভিনয়ে হাতেখড়ি ছিল, নাকি…

হ্যাঁ। আমার বাবা নামকরা কৌতুক অভিনেতা সোনা মিয়া। বাবাকে দেখে ছোটবেলা থেকেই আমার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মে। অবশ্য আমার পরিবারের আর কেউ এই অঙ্গনে ছিল না।

আবার কোনো চলচ্চিত্র পুনরায় নির্মিত হলে ওই চরিত্রে অভিনয় করবেন?

কামাল আহমেদের ‘মা ও ছেলে’ ও ছটকু আহমেদের ‘চেতনা’ চলচ্চিত্র দুটি হলে আবারও মূল চরিত্রে অভিনয় করব।

নতুনরা কেমন করছে?

অনেক ভালো করছে। তবে ওদের তো সুযোগ দিতে হবে। আর নতুনদেরও এমন কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দর্শকরা তাদের মনে রাখে।

শুনেছি, আপনার একটা দুঃখবোধ আছে…

হ্যাঁ। আমরা পাঁচ বোন, এক ভাই। কিন্তু আমার ভাই খোকন ২৮ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। খুব অল্প বয়স। ওকে খুব ভালোবাসি। ও আমার ভাই, বন্ধু, সাথী সবই ছিল।

তবে আমার একমাত্র মেয়ে অনামিকা এখন আমার বড় সঙ্গী। ওর বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তাই ও আর আমি নিজেরাই নিজেদের মত করে থাকি।

(দ্য রিপোর্ট/আইএফ/এইচএসএম/সা/ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৪)